পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (PAD)
পায়ের ধমনি সরু হয়ে যাওয়ায় হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা ও রক্ত চলাচলের ঘাটতি। চিকিৎসায় আছে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিংয়ের মতো উপায়।
- হাঁটলে পায়ে ব্যথা
- অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি
- স্টেন্টিং
যেসব রোগের চিকিৎসা করি
ডায়াবেটিস আছে, আর পায়ের যত্ন নিয়ে চিন্তিত? ডায়াবেটিসে পায়ের নার্ভ ও রক্তনালি, দুয়েরই ক্ষতি হতে পারে। তখন ছোট্ট একটা কাটা বা ফোসকা থেকেও এমন ঘা হতে পারে, যা সহজে সারে না। শুরুতেই রক্ত চলাচল পরীক্ষা করা আর ধমনি সরু হলে তার চিকিৎসা করা, এতে আপনার পা সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য হয়।

দীর্ঘদিন রক্তে সুগার বেশি থাকলে পায়ের নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে (নিউরোপ্যাথি / Neuropathy), ফলে আঘাত লাগলেও টের পাওয়া যায় না। আবার ধমনিও সরু হয়ে যেতে পারে (পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ / PAD), ফলে ঘা সারানোর জন্য পায়ে রক্ত কম পৌঁছায়। দুটি মিলে পায়ে ঘা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, আর সেই ঘা সারাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ডায়াবেটিক ফুটে সংক্রমণ (ইনফেকশন) খুব দ্রুত ছড়াতে পারে। যেকোনো ঘা হলেই দেরি না করে দেখানো, আর রক্ত চলাচলের সমস্যার শুরুতেই চিকিৎসা, এতে সত্যিই অনেক পার্থক্য হয়।
নিচের কোনোটি মিলে গেলে পরামর্শের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার কথা ভাবুন:
প্রতিটি পরীক্ষার শুরু মন দিয়ে শোনা থেকে। কোনো পরামর্শ দেওয়ার আগে আমরা সময় নিয়ে পুরো ছবিটা বুঝে নিই।
আলোচনা
স্পেশালিষ্টের সাথে বসে আপনার সমস্যা, দুশ্চিন্তা আর আপনি কী চাইছেন, সবকিছু নিয়ে কথা বলুন।
আপনার স্বাস্থ্যের ইতিহাস
আপনার শারীরিক অবস্থা, আগের অসুখ, ওষুধ, পরিবারের ইতিহাস ও রোজকার রুটিন জেনে নেওয়া হয়, কারণ প্রায়ই এখান থেকেই সমস্যার সূত্র মেলে।
শারীরিক পরীক্ষা
আলাদা ঘরে, যত্নসহকারে, আলতো হাতে সমস্যার জায়গাটি পরীক্ষা করা হয়।
রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখা
আপনার আনা আগের স্ক্যান, টেস্টের রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন দেখে নেওয়া হয়, যাতে অকারণে কিছু আবার করাতে না হয়।
প্রয়োজন হলে তবেই টেস্ট
আরও তথ্যের দরকার হলে কোন টেস্ট করাতে হবে আর কেন, আপনার স্পেশালিষ্ট তা বুঝিয়ে বলবেন।
স্পেশালিষ্ট আপনার পায়ের নাড়ি ও অনুভূতি পরীক্ষা করবেন, আর রক্ত চলাচল বুঝতে এবিআই টেস্ট (ABI test) বা ডপলার আলট্রাসাউন্ড (Doppler ultrasound) স্ক্যানের পরামর্শ দিতে পারেন।
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ আর তা আপনার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে তার ওপর। আপনার জন্য উপযুক্ত প্রতিটি উপায়ের উপকার ও ঝুঁকি স্পেশালিষ্ট সহজ করে বুঝিয়ে বলবেন, যাতে দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
শুরুতেই সরু হয়ে যাওয়া ধমনি চিহ্নিত করা, রক্তনালি সুরক্ষার ওষুধ, আর সুগার নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ নজর।
ড্রেসিং, ঘায়ের ওপর চাপ কমানো (অফ-লোডিং / Off-loading) ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরামর্শ, আপনার ডায়াবেটিসের চিকিৎসকদের সাথে সমন্বয় রেখে।
ধমনি সরু হয়ে থাকলে পায়ে বেশি রক্ত পৌঁছে দিতে ও ঘা সারাতে সাহায্য করার জন্য অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি (Angioplasty) বা স্টেন্টিংয়ের (Stenting) পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
কোনো প্রসিডিওরের প্রয়োজন হলে আপনার স্পেশালিষ্ট তা বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবেন ও হাসপাতালে তার ব্যবস্থা করে দেবেন। পরবর্তী ফলো-আপের জন্য আপনি আবার এখানে, Vessels Clinic-এই আসবেন।
কারণ ডায়াবেটিসে পায়ের ধমনি সরু হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, আর তাতে ঘা সারতে দেরি হতে পারে। শুরুতেই রক্ত চলাচলের সমস্যা ধরে চিকিৎসা করলে পা সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য হয়।
লালভাব ছড়াতে থাকলে, জ্বর এলে, দুর্গন্ধ বেরোলে, চামড়া কালো হয়ে গেলে বা হঠাৎ নতুন করে ব্যথা শুরু হলে সেদিনই চিকিৎসা নিন।
প্রতিদিন নিজে দেখুন, আর বছরে অন্তত একবার ডাক্তারকে দিয়ে পরীক্ষা করান। আগে সমস্যা হয়ে থাকলে আরও ঘন ঘন।
আরও জানুন
পায়ের ধমনি সরু হয়ে যাওয়ায় হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা ও রক্ত চলাচলের ঘাটতি। চিকিৎসায় আছে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিংয়ের মতো উপায়।
পা ফুলে যাওয়া, ভারী লাগা বা ব্যথা আর পায়ের যে ঘা সারছে না, এসবের পিছনে প্রায়ই থাকে পায়ের শিরার সমস্যা।
পায়ে ফুলে ওঠা, পেঁচানো বা ব্যথাযুক্ত শিরা ও সরু স্পাইডার ভেইন। চিকিৎসায় আছে লেজার থেরাপি, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA), গ্লু থেরাপি ও স্ক্লেরোথেরাপির মতো মিনিমালি ইনভেসিভ উপায়।
সময় নিয়ে স্পেশালিষ্টের পরামর্শ পেতে WhatsApp-এ মেসেজ করুন বা ক্লিনিকে ফোন করুন।