পা ফোলা ও ভেনাস আলসার
পা ফুলে যাওয়া, ভারী লাগা বা ব্যথা আর পায়ের যে ঘা সারছে না, এসবের পিছনে প্রায়ই থাকে পায়ের শিরার সমস্যা।
- পা ভারী লাগা
- ভেনাস আলসার
- পায়ের না-সারা ঘা
যেসব রোগের চিকিৎসা করি
ভেরিকোজ ভেইন হলো ফুলে ওঠা, পেঁচানো শিরা, যা সাধারণত পায়েই দেখা যায়। আজকাল এর চিকিৎসায় বড় অপারেশন খুব কমই লাগে। লেজার থেরাপি (Laser therapy), রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA) ও গ্লু থেরাপির (Glue therapy) মতো মিনিমালি ইনভেসিভ (Minimally invasive) পদ্ধতিতে একটিমাত্র ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে সমস্যাযুক্ত শিরার ভেতর থেকেই চিকিৎসা করা হয়। আপনার আদৌ চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না, আর থাকলে কোন পদ্ধতি আপনার জন্য উপযুক্ত, আমাদের স্পেশালিষ্ট তা বুঝতে সাহায্য করবেন।

শিরার কাজ হলো শরীরের রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। পায়ের শিরার ভেতরে ছোট ছোট একমুখী ভালভ থাকে, যা দাঁড়িয়ে থাকার সময় রক্তকে নিচের দিকে নেমে যেতে দেয় না। এই ভালভগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে শিরায় রক্ত জমতে থাকে। ধীরে ধীরে শিরাটি প্রসারিত হয়, ফুলে ওঠে ও পেঁচিয়ে যায়। চিকিৎসার ভাষায় একে ভেনাস রিফ্লাক্স (Venous reflux) বা ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি (Chronic venous insufficiency) বলা হয়।
স্পাইডার ভেইন হলো চামড়ার ঠিক নিচে লাল বা বেগুনি রঙের সরু শিরা। এগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবে কখনও কখনও ভেতরে শিরার কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
ভেরিকোজ ভেইন খুবই পরিচিত সমস্যা। এটি বংশগত হতে পারে, আর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ, গর্ভাবস্থা, বয়স বাড়া ও অতিরিক্ত ওজনে এর সম্ভাবনা বাড়ে। কারও কাছে এটি মূলত সৌন্দর্যের বিষয়। আবার কারও পা ভারী লাগে বা ব্যথা করে, পা ফোলে, চামড়ার পরিবর্তন হয়, আর বছরের পর বছর চিকিৎসা না হলে গোড়ালির কাছে ভেনাস আলসার (Venous ulcer) হতে পারে।
নিচের কোনোটি মিলে গেলে পরামর্শের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার কথা ভাবুন:
প্রতিটি পরীক্ষার শুরু মন দিয়ে শোনা থেকে। কোনো পরামর্শ দেওয়ার আগে আমরা সময় নিয়ে পুরো ছবিটা বুঝে নিই।
আলোচনা
স্পেশালিষ্টের সাথে বসে আপনার সমস্যা, দুশ্চিন্তা আর আপনি কী চাইছেন, সবকিছু নিয়ে কথা বলুন।
আপনার স্বাস্থ্যের ইতিহাস
আপনার শারীরিক অবস্থা, আগের অসুখ, ওষুধ, পরিবারের ইতিহাস ও রোজকার রুটিন জেনে নেওয়া হয়, কারণ প্রায়ই এখান থেকেই সমস্যার সূত্র মেলে।
শারীরিক পরীক্ষা
আলাদা ঘরে, যত্নসহকারে, আলতো হাতে সমস্যার জায়গাটি পরীক্ষা করা হয়।
রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখা
আপনার আনা আগের স্ক্যান, টেস্টের রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন দেখে নেওয়া হয়, যাতে অকারণে কিছু আবার করাতে না হয়।
প্রয়োজন হলে তবেই টেস্ট
আরও তথ্যের দরকার হলে কোন টেস্ট করাতে হবে আর কেন, আপনার স্পেশালিষ্ট তা বুঝিয়ে বলবেন।
ভেরিকোজ ভেইনের ক্ষেত্রে স্পেশালিষ্ট ডপলার আলট্রাসাউন্ড (Doppler ultrasound) স্ক্যান করানোর পরামর্শ দিতে পারেন। এতে বোঝা যায় পায়ের শিরায় রক্ত কীভাবে চলছে আর কোন ভালভগুলো ঠিকমতো বন্ধ হচ্ছে না। লেজার থেরাপি, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA), গ্লু থেরাপি নাকি স্ক্লেরোথেরাপি (Sclerotherapy), কোনটি আপনার শিরার জন্য উপযুক্ত, তা ঠিক করতেও এই স্ক্যান সাহায্য করে। এটি একটি সহজ স্ক্যান, এতে কোনো রেডিয়েশন নেই।
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ আর তা আপনার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে তার ওপর। আপনার জন্য উপযুক্ত প্রতিটি উপায়ের উপকার ও ঝুঁকি স্পেশালিষ্ট সহজ করে বুঝিয়ে বলবেন, যাতে দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
সমস্যাযুক্ত শিরার ভেতরে একটি সরু লেজার ফাইবার রাখা হয়, আর মৃদু তাপে শিরাটি ভেতর থেকে বন্ধ হয়ে যায়। আলট্রাসাউন্ডে দেখে দেখে, একটিমাত্র ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে, সাধারণত লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ায় (শুধু জায়গাটুকু অবশ করে) এটি করা হয়। এরপর রক্ত সুস্থ শিরাগুলোর মধ্যে দিয়ে চলাচল করে।
একটি সরু ক্যাথেটারের সাহায্যে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তি (নিয়ন্ত্রিত তাপ) দিয়ে সমস্যাযুক্ত শিরাটি ভেতর থেকে বন্ধ করা হয়। আলট্রাসাউন্ডে দেখে দেখে, একটিমাত্র ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে, সাধারণত লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ায় এটি করা হয়।
কোনো তাপ ছাড়াই, অল্প পরিমাণ মেডিক্যাল আঠা দিয়ে শিরার ভেতরটা জুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আলট্রাসাউন্ডে দেখে দেখে, একটিমাত্র ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে, সাধারণত লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ায় এটি করা হয়।
শিরায় একটি ওষুধ ইনজেকশন দেওয়া হয়, ফলে শিরাটি বন্ধ হয়ে যায় ও পরের কয়েক সপ্তাহে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। এটি মূলত ছোট শিরা ও স্পাইডার ভেইনের জন্য ব্যবহার করা হয়; কিছু বড় শিরার ক্ষেত্রে এর ফোম (ফেনা) রূপও ব্যবহার করা যায়।
গ্র্যাজুয়েটেড কমপ্রেশন স্টকিং (Compression stockings), নিয়মিত হাঁটা, পা উঁচুতে রাখা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ, এককভাবে বা চিকিৎসার পাশাপাশি, কষ্ট কমাতে পারে। সমস্যা হালকা হলে হয়তো এটুকুই যথেষ্ট।
পরীক্ষার পরে কোন পদ্ধতি আপনার শিরার জন্য উপযুক্ত, আপনার স্পেশালিষ্ট তা বুঝিয়ে বলবেন।
কোনো প্রসিডিওরের প্রয়োজন হলে আপনার স্পেশালিষ্ট তা বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবেন ও হাসপাতালে তার ব্যবস্থা করে দেবেন। পরবর্তী ফলো-আপের জন্য আপনি আবার এখানে, Vessels Clinic-এই আসবেন।
সবসময় নয়। এর থেকে ব্যথা, ফোলা ও চামড়ার পরিবর্তন হতে পারে, আর সময়ের সাথে ভেনাস আলসারও হতে পারে। চিকিৎসার প্রয়োজন আছে, নাকি সাধারণ কিছু নিয়ম মানলেই চলবে, পরামর্শের সময় তা ঠিক করা যায়।
তিনটি পদ্ধতিতেই সমস্যাযুক্ত শিরাটি ভেতর থেকে বন্ধ করা হয়: আলট্রাসাউন্ডে দেখে দেখে, একটিমাত্র ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে, সাধারণত লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ায়। লেজার থেরাপিতে সরু লেজার ফাইবারের মৃদু তাপ আর রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনে (RFA) রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তির নিয়ন্ত্রিত তাপ ব্যবহার করা হয়। গ্লু থেরাপিতে কোনো তাপ ছাড়াই অল্প মেডিক্যাল আঠা দিয়ে শিরাটি বন্ধ করা হয়।
এটি নির্ভর করে সমস্যাযুক্ত শিরার আকার ও অবস্থান, আপনার উপসর্গ আর সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর। পরীক্ষার পরে কোন পদ্ধতি আপনার শিরার জন্য উপযুক্ত, আপনার স্পেশালিষ্ট তা বুঝিয়ে বলবেন। কারও কারও একাধিক পদ্ধতি একসাথে লাগে, যেমন মূল শিরার জন্য লেজার থেরাপি বা RFA আর ছোট শাখাগুলোর জন্য স্ক্লেরোথেরাপি।
স্ক্লেরোথেরাপি মূলত ছোট শিরা ও স্পাইডার ভেইনের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিছু বড় শিরার ক্ষেত্রেও এর ফোম রূপ ব্যবহার করা যায়, এককভাবে বা অন্য চিকিৎসার পাশাপাশি।
না, দরকার নেই। পায়ে অনেক শিরা আছে। সমস্যাযুক্ত শিরাটি বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত ভেতরের দিকের সুস্থ শিরাগুলো দিয়েই হৃৎপিণ্ডে ফিরে যায়।
যে শিরার চিকিৎসা হয়েছে, সেটি সাধারণত বন্ধই থাকে। তবে প্রবণতাটি বংশগত হওয়ায় বছরের পর বছর নতুন ভেরিকোজ ভেইন দেখা দিতে পারে। নিয়মিত হাঁটা, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ফলো-আপে উপকার পাওয়া যায়।
আরও জানুন
পা ফুলে যাওয়া, ভারী লাগা বা ব্যথা আর পায়ের যে ঘা সারছে না, এসবের পিছনে প্রায়ই থাকে পায়ের শিরার সমস্যা।
পায়ের ধমনি সরু হয়ে যাওয়ায় হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা ও রক্ত চলাচলের ঘাটতি। চিকিৎসায় আছে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিংয়ের মতো উপায়।
ডায়াবেটিসে রক্ত চলাচলের সমস্যা, পায়ে অবশ ভাব ও পায়ের ঘা। পা সুরক্ষিত রাখতে শুরুতেই পরীক্ষা জরুরি।
সময় নিয়ে স্পেশালিষ্টের পরামর্শ পেতে WhatsApp-এ মেসেজ করুন বা ক্লিনিকে ফোন করুন।